সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আবারও উত্তেজনা ছড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ফিলিপাইন। আজ শনিবার দেশটির মানুষ ফের রাজপথে নামতে যাচ্ছে। দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মেট্রো ম্যানিলায় রোববার এক বিশাল সমাবেশ হতে যাচ্ছে, যেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হবে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে সারা দেশে ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের দাবি, জলবায়ু প্রকল্পের অর্থ থেকে প্রায় ১৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ এক ট্রিলিয়ন ফিলিপাইন পেসো আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ কারণেই বিক্ষোভের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রিলিয়ন পেসো মার্চ’।
দ্য গার্ডিয়ান আরও জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর তারিখটির রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ১৯৭২ সালের এই দিনেই তৎকালীন একনায়ক ফার্দিনান্দ মারকোস ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর তার শাসনের পতন ঘটে। ১৯৮৯ সালে দুর্নীতি ও গণআন্দোলনের চাপে তিনি দেশত্যাগ করেন।
বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ ‘বংবং’ মারকোস জুনিয়র, যিনি সেই সাবেক শাসকের ছেলে। বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ কি ভুল করছে রাস্তায় নেমে? আমি যদি আজ প্রেসিডেন্ট না হতাম, হয়তো আমিও তাদের সঙ্গে দাঁড়াতাম। সবাই ক্ষুব্ধ, আমিও ক্ষুব্ধ। অন্যায় যা হচ্ছে তা কারও মেনে নেওয়া উচিত নয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গামানেটওয়ার্ক জানিয়েছে, রোববার ম্যানিলায় দুটি বড় সমাবেশ হবে। সকাল ৯টায় রিজাল পার্ক থেকে শুরু হবে প্রথম কর্মসূচি, যার স্লোগান— ‘বন্যা প্রতিরোধে পদক্ষেপ : দুর্নীতির বিরুদ্ধে কণ্ঠ’। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নাগরিক সংগঠন ও অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ অংশ নেবে।
দুপুর ২টায় শুরু হবে আরেকটি মহাসমাবেশ, রাজধানীর ইডিএসএ পিপল পাওয়ার মনুমেন্টে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ উপস্থিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মীয় নেতারা এর নেতৃত্ব দেবেন। পাশাপাশি যুক্ত হবে নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষ।
খবরে আরও বলা হয়, ছাত্র সংগঠন, চার্চ ও অসংখ্য সিভিল সোসাইটি গ্রুপ এই আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সম্প্রতি তরুণদের নেতৃত্বে যে সরকারবিরোধী জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতা এটি। উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে নেপালে জেনারেশন জেড-এর নেতৃত্বে সরকারের পতন, ইন্দোনেশিয়ায় এমপিদের অতিরিক্ত সুবিধা বাতিল এবং তিমুর-লেস্টেতে এমপিদের বিলাসবহুল গাড়ি কেনা বাতিলের ঘটনাকে।
ফিলিপাইনে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে ‘ঘোস্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার’—কাগজে থাকা কিন্তু বাস্তবে না হওয়া প্রকল্প। গত সপ্তাহেই প্রেসিডেন্টের আত্মীয় এবং হাউস স্পিকার মার্টিন রোমুয়ালদেজ পদত্যাগ করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প ঘিরে ওঠা প্রশ্ন শুধু তাকে নয়, পুরো সংসদকেই বিতর্কিত করেছে। তাই তিনি সৎভাবে পদত্যাগ করছেন, যেন স্বাধীন কমিশন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারে।
এদিকে একটি নির্মাণ কোম্পানি প্রায় ৩০ জন সাংসদ ও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলেছে। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট মারকোস সাবেক সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি আন্দ্রেস রেয়েসকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিশন গঠন করেন। এ সংস্থা গত দশ বছরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প খতিয়ে দেখবে।